Ramadan-Opportunities-exclusive-chart-by-nusratech
Ramadan Marketing Opportunities Exclusive Chart – Bangla
May 2, 2017
Show all

ই-কমার্স স্টার্টআপে বিনিয়োগের সুযোগ – Funding Opportunities For E-Commerce Startups

Funding Opportunities For E-Commerce Startups

যে কোন ব্যবসা শুরু করাটাই বেশ জটিল। সীমিত টাকা নিয়ে কোন আইডিয়াই ভালভাবে বাস্তবায়ন করা যায় না। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোও এই সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকে। একটি স্টার্ট-আপের বিভিন্ন কারণে ফান্ড লাগতে পারে- ব্যবসা শুরু করতে, ব্যবসা বিস্তার করতে, বা নতুন ক্রেতা সৃষ্টি করতে। বর্তমানে বিভিন্ন উপায়ে এই ফান্ডিংয়ের ব্যবস্থা করা যায়। নিম্নে এরকম কয়েকটি উপায় তুলে ধরা হলো-

অ্যাঞ্জেল ইনভেসটিং:

অ্যাঞ্জেল ইনভেসটর হচ্ছে কোন ব্যক্তি যখন একজন উদ্যোক্তাকে তার ব্যবসা শুরু করার জন্যে টাকা দেবে অথবা ব্যবসাতে চলমান আর্থিক সমস্যা কাটিয়ে উঠতে টাকা দেবে। উদ্যোক্তা যদি একজন অ্যাঞ্জেল ইনভেসটর খুঁজেপায় তাহলে তার সাথে ভালভাবে আলোচনা করে কি ধরনের চুক্তি হবে তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টরদের অনেকে ব্যবসার অংশীদার হতে চায়। তাই একজন উদ্যোক্তা যখন তার প্রতিষ্ঠানের ইক্যুইটি একজন অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টরের কাছে বিক্রি করবেন তখন তাকে আগে নিশ্চিত করতে হবে যে ইক্যুইটি বিক্রির অনুপাতে তিনি সেরকম বিনিয়োগ পাচ্ছেন কিনা।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর উদ্যোক্তার আত্মীয়, বন্ধু বা পরিচিত জন। অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টররা সেরকম ধনী নন তবে অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টরের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে সহজে তাদের পাওয়া যায়। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, বাবা-মা, এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর হতে পারে।

অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টরের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। একজন উদ্যোক্তা তার প্রতিষ্ঠানের ইক্যুইটি একজন অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টরের কাছে বিক্রি করে দিলেন। উক্ত ইনভেস্টর তখন ঐ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অংশীদার। এ কারণে ভবিষ্যতে অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় বনিবনা নাও হতে পারে।

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল:

ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টরা একটি স্টার্ট-আপে লাভের লক্ষ্য নিয়ে বিনিয়োগ করে থাকেন। ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টদের অনেকেই নিজে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী বা বিভিন্ন ব্যবসা সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের অধিকারী হয়ে থাকেন। অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টরদের তুলনায় তাদের বিনিয়োগ অনেক বড়।

বড় বড় স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠান বা ই-কমার্স স্টার্ট-আপ গুলোর জন্যে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল আদর্শ বিনিয়োগ। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিনিয়োগকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কনসালটিং বা ম্যানেজমেন্টের অংশ হতে চায়। তারা উদ্যোক্তার প্রতিষ্ঠানকে মূল্যবান পরামর্শ দিতে পারে যার মাধ্যমে এটি লাভজনক হয়ে উঠতে পারে। যদি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল উদ্যোক্তার প্রতিষ্ঠানের উপরে আস্থা রাখতে পারে তাহলে সে অন্যান্য আরো ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগকারী হিসেবে নিয়ে আসতে পারে।

যদি উদ্যোক্তা বিচক্ষণতার সাথে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট নির্বাচন করতে পারেন তাহলে সেটি তার জন্যে বড় শক্তির উৎস হয়ে উঠতে পারে। তবে যদি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান এবং উদ্যোক্তার চিন্তা-ভাবনা বা ভিশনের মধ্যে মিল না থাকে তাহলে তা ব্যবসার জন্যে বিশাল সমস্যা হয়ে উঠতে পারে।

আরেকটা বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টরা বিশাল লাভের কথা মাথায় রেখে বিনিয়োগ করে থাকে।  আর তারা অনেক চিন্তা-ভাবনা করে কাজ করে। তাই উদ্যোক্তা এটা আশা করতে পারে না যে একটা আইডিয়া বা স্ট্রাটেজি উল্লেখ করলেই সাথে সাথে তারা টাকা ঢালবে। আগে তারা সময় নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে বা বাজার যাচাই করবে এবং তারপরে উদ্যোক্তাকে টাকা দেবে। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে তারা অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টরের তুলনায় অনেক বড় স্টেক দাবী করবে।

প্রাইভেট ইক্যুইটি ফান্ড:

প্রাইভেট ইক্যুইটিও ভেঞ্চার ক্যাপিটালের মতো একই পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করে থাকে। কোন প্রাইভেট ইক্যুইটি ফান্ড একটি ব্যবসাতে বিনিয়োগ করার পরে তারা এক পর্যায়ে লাভের জন্যে ব্যবসাতে তাদের স্টেক বিক্রি করে দিতে পারে।  ছোট ব্যবসা বা স্টার্ট-আপের জন্যে প্রাইভেট ইক্যুইটি উপযুক্ত নয়। বড় বড় প্রতিষ্ঠানের জন্যে এই বিনিয়োগ ভাল। প্রাইভেট ইক্যুইটির ফান্ডিং পন্থা অনেক জটিল। তাদের বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগ থাকে। তবে কোন সুপ্রতিষ্ঠিত স্টার্ট-আপ তাদের ব্যবসা বাড়াতে প্রাইভেট ইক্যুইটি ফান্ড নিতে পারে।

ক্রাউড ফান্ডিং:

ক্রাউড মানে ভিড় এবং ফান্ডিং মানে টাকা দেয়া। কোন একটি স্টার্ট-আপে বিনিয়োগের জন্যে যখন একসাথে অনেক লোক অল্প অল্প করে টাকা দেয় তাকেই সোজা কথায় বলে ক্রাউড ফান্ডিং।   বিভিন্ন নিশ পণ্য বা সেবা  যেখানে অনেক ক্রেতা আছে । যারা তাদের প্যাশনের জন্যে উক্ত পণ্য বা সেবা ক্রয় করে থাকেন সেসব ব্যবসার ক্ষেত্রে ক্রাউড ফান্ডিং খুবই ভাল পন্থা বিনিয়োগ যোগাড় করার। কোন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান যদি তাদের নিজস্ব পণ্য ডেভেলপ করতে চায় সেক্ষেত্রেও ক্রাউড ফান্ডিং বিনিয়োগ সংগ্রহ করার জন্যে একটি কার্যকরী পদ্ধতি হতে পারে। কোন ব্যক্তির হয়তো একটি নির্দিষ্ট পণ্য তৈরি করার আইডিয়া আছে সেক্ষেত্রেও ক্রাউড ফান্ডিং খুবই ভাল।

অনলাইনে কিকস্টার্টার  (Kickstarter) ,এবং ইন্ডিগোগো (Indiegogo) নামে দুটি জনপ্রিয় ক্রাউড-ফান্ডিং প্ল্যাটফর্ম আছে।

ক্রাউডফান্ডিং এর একটি বড় সুবিধা হচ্ছে যে উদ্যোক্তা তার ব্যবসার পুরো মালিকানা রাখতে পারে।

ক্রাউডফান্ডিং এর আরেকটি বড় সুবিধা হচ্ছে পাবলিক রিকোয়েস্ট। একজন উদ্যোক্তা অনেক লোকের কাছে থেকে একটু একটু করে টাকা নিচ্ছে তাই তার ব্যবসা বা পণ্য বিক্রির আগেই তার পণ্যের একটি সম্ভাব্য ক্রেতা শ্রেণী সৃষ্টি হয়। তবে এখানে উদ্যোক্তার জন্যে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে তাকে নিয়মিত প্রমোশন করতে হবে। আমি এই প্রডাক্ট বা সেবা ডেভেলপ করছি। আপনার বিনিয়োগ আমাদের অনেক সাহায্য করবে।” এই কথাটা বার বার বিভিন্নভাবে নানা আকারে ইঙ্গিতে প্রচার করতে হবে। কিকস্টার্টার ওয়েবসাইটে  (www.kickstarter.com) গেলে আপনি দেখতে পাবেন যে বিভিন্ন উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য বা সেবা নিয়ে সুন্দর করে ভিডিও তৈরি করে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।

 

মূল লেখক: Linus Minick অনুবাদ করেছেন: S M Mehdi Hassan

Comments are closed.